তুই কে
আমার বিশ্বাসে হাত তুলিস?
আমার বন্ধুর বিশ্বাসে আগুন ধরাস?
যার যার ধর্মবোধ—
সে তার পথেই হাঁটবে।
কারও মাথায় কোরআন,
কারও বুকে গীতা,
কারও নিঃশ্বাসে ত্রিপিটক,
কারও কণ্ঠে গান,
কারও নীরবতায় ধ্যান—
তাকে বাঁধা দেবা তুই কে
এ সিদ্ধান্ত তুই নিলি কবে?
বল তো—
শান্তির রাসূলের ধর্মকে
হিংস্রতার ছুরি বানালো কে?
আমার পূর্বপুরুষের
টুপি, দাড়ি, জোব্বা, বোরকা
কবে থেকে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে গেল?
আমার বন্ধুর
টিকি, ধুতি, চন্দন, গেরুয়া
কখন ঘৃণার নিশানায় রূপ নিল?
কে দিল তোকে অধিকার—
বিশ্বাসের ঘর ভাঙার,
উপাসনার আলো নিভানোর,
প্রার্থনার কণ্ঠ চেপে ধরার?
তুই অন্ধ—
কিন্তু অন্ধত্ব চোখে নয়,
তোর অন্ধত্ব বিবেকে।
তোর মস্তিষ্ক
একটি ব্ল্যাকহোল—
যেখানে আলো ঢোকে না,
যুক্তি ফিরে আসে না,
মানবতা বিলীন হয়ে যায়।
তুই মানুষকে ঠেলে দিতে চাস
সভ্যতার লক্ষ কোটি বছর পেছনে—
অজ্ঞানতার
নিকষ অন্ধকারে।
কিন্তু শোন—
অন্ধকারেরও আয়ু আছে।
আমি ভয় পাই না।
আমি একা দাঁড়ালেও
আমি একা নই।
আমি দাঁড়াই
নূর হোসেনের মতো
উঁচু বুক নিয়ে।
আমি দাঁড়াই
আসাদ, রুমি, আবু সাঈদের মতো
মানুষের পক্ষে,
স্বাধীনতার পক্ষে।
আমি ভীরু নই।
আমি কাপুরুষ নই।
আমি অটল—
হিমালয়ের মতো।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত
আমার শিরায়।
দুই লক্ষ মা-বোনের অশ্রু
আমার চোখে।
মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা,
মাজার, আখড়া—
সব আমার বুকের ভেতর।
বাউল, সুফি, ফকির, দরবেশ,
পুরোহিত, ভিক্ষু—
সবাই আমারই সত্তা।
তুই ভাবিস
ভয় দেখিয়ে আমাকে মুছে ফেলবি?
পারবি না।
আমার নদী জাগবে,
খাল-বিল জেগে উঠবে,
হাওর-বাঁওড় গর্জে উঠবে,
শস্যক্ষেতের প্রতিটি দানা
প্রতিবাদী হবে।
আমার বনভূমি,
আমার মানুষ
একসাথে দাঁড়াবে।
রক্তসমুদ্রের ভেতর থেকে
আমার জন্ম।
ধ্বংসস্তূপ থেকে
ফিনিক্সের মতো
আমার উড্ডয়ন।
আমি অবিনাশী।
আমি অপরাজেয়।
আমি কোনো একক মানুষ নই—
আমি একটি চেতনা।
আমি—
রক্তে-বারুদে নয়,
মানবতায় রঞ্জিত
লালসবুজ বাংলাদেশ।
অন্ধকার চিরকাল থাকে না।
মানুষ জাগে—
আর আলো আসেই।
২৩.১২.২০২৫
Leave a Reply