3482

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

জীবনে ও কবিতায় সমান লড়াকু অথচ বস্তু-নির্মোহ মানবিক চেতনায় ঋদ্ধ যে ক’জন কবি সারা পৃথিবীতে সর্বজনীন তাদের মধ্যে মোহন রায়হান অন্যতম। কবি মোহন রায়হান আপাদমস্তক প্রতিবাদী, সাহসী, মুক্তপ্রাণ, মুক্তচিন্তার এক বিপ্লবী কবি। যখন সমাজে ঘুণে ধরা কোরাস, শস্যের মাঠে ইটভাটার লেলিহান বাণিজ্য, যখন কবিতার গোলাঘরে ধেড়ে ইঁদুর, যখন নৈতিকতার গোরস্তানে প্রতিদিন অগণ্য কবর, তখন মোহনের কবিতায় ঝলসে ওঠে লালাভ অগ্নিনিঃশ্বাস। তিনি দ্রোহের ইস্পাতফলায় হৃদয়ের লাল জমিন খুঁড়ে চাষ করেন কবিতা, পাশাপাশি ফুটে ওঠে থোকা থোকা জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো রক্তদ্রোণ আর অশ্রুজবা শব্দ। এ কবির শিরোদেশে শোভা পায় বিপ্লবের লাল টুপি। তেমনি তার কবিতাও যেন রক্তস্রোতের লাল চিৎকার, অগ্নিদহনের লাল উৎসব, যোদ্ধার হাতের স্টেনগান থেকে ছিটকে পড়া লাল বারুদের স্ফুলিঙ্গ। প্রতিটি কাব্যগ্রন্থেই এই কবি যেন এক দুরন্ত লালকর। একই সঙ্গে তার কবিতা দুঃখের মোহনায় আছড়ে পড়া নোনা জলের ঢেউ। প্রেমের গভীর আবেগ, হতাশার দীর্ঘনিঃশ্বাস, বিশ্বাস আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনা তার কবিতায় গেঁথে দেয় অশ্রুর স্ফটিক, শব্দের শরীরে লেগে থাকে শিশিরের ভেজা ঠোঁটের চুমু, রক্তক্ষরা হৃদয়ের উষ্ণ ছোঁয়া।

বাংলাদেশের কবিতার ভুবনে স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল কবি মোহন রায়হান। তাঁর জীবন স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক মুক্তিসংগ্রামেরই বেদনাসিক্ত উপাখ্যান। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারসংবলিত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য যে বৈজ্ঞানিক সমাজদর্শনে তিনি যৌবনে ঋদ্ধ হয়েছিলেন, তার প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্য সংশপ্তক স্বরে ধ্বনিত হয়েছে তার প্রায় সব গ্রন্থে। সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে অসামান্য ত্যাগী, প্রগতিশীল শক্তি আজ নানাভাবে বিভক্ত। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মোহন চেয়েছেন এই প্রগতিশীল শক্তির অপরাজয় ঐক্য। তার বিভিন্ন কবিতায় তিনি এই ঐক্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন।

সবকিছুতে স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল মোহন রায়হান। তাঁর তাবৎ অর্জন অনায়াস আপসহীন বন্ধুর বেদনাক্ত রক্তাক্ত স্বপ্ন ও সংগ্রামের যোগফল। বাধা ও অতিক্রম পাশাপাশি হেঁটেছে তাঁর জীবনজুড়ে। বাইরের বাধা ও তার ভয়াল হিংস্রতা এবং ভেতরের ভয়হীন ফিনিক্সীয় জন্মযুদ্ধ দিয়ে অতিক্রম করা কবি মোহন রায়হানের জীবনেতিহাস। তিনি কবি দ্রোহ প্রেম ও প্রতিবাদের। স্বাধীনতা-উত্তর আমাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের ব্যর্থতার দগ্ধতায় সামরিক বুটের নিচে পিষ্ট বাংলাদেশের জরায়ু থেকে মোহন রায়হানের অভ্যুদয়। বস্তুত একাত্তরপরবর্তী জাতীয় আকাঙ্ক্ষার পরাজিত বিক্ষোভগুলি ধারণ করেই মোহন রায়হানের কবিতা সেদিন মূর্ত হয়ে উঠেছিল। তিনি আমাদের আবহমান অস্তিত্ব সংগ্রামের দহন থেকে উঠে আসা ইতিহাসের এক মনোনীত কণ্ঠস্বর। মোহন রায়হানের কবিতার শিল্পমাত্রা এই মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অনুসন্ধান করতে হয়। নচেৎ নিছক সমাজ বদলের হাতিয়ারপন্থি অথবা তথাকথিত কলাকৈবল্যবাদীর কাছে সম্যক বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না।

মোহন রায়হানের জীবনেতিহাস আসলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ইতিহাস। তাঁদের চোখের সামনে মুক্তিযুদ্ধের মতো বিরাট একটি আত্মপরিচয় ছিনতাই হয়ে যায়। অর্জিত প্রিয়তম স্বদেশের বিপন্ন সময়ের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতায় আমাদের সেই প্রতিরোধের ভাষার উপর্যুপরি নির্মাণ ঘটেছে। ‘ফিরে দাও সেই স্টেনগান’ একদা তাঁর কণ্ঠে ভর করে গর্জে উঠেছিল আমাদের আর্ত পুনযুদ্ধের ডাক।

আপনার দেওয়া ছবিটির লেখাগুলো নিচে টাইপ করে দেওয়া হলো:

মোহন রায়হান মূলত কবি কিন্তু তিনি একজন রাজনৈতিক যোদ্ধা। ১৯৮৩-এর ১১ জানুয়ারি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম ছাত্রবিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আমাদের রাষ্ট্র সংগ্রামের প্রতিটি ধাপ, সমস্ত চড়াই-উতরাই, যুদ্ধ-ক্ষোভ-লাঞ্ছনা ও নিস্পন্দিত দুঃখালকে তিনি যোগ্য মূহুর্তে প্রতিনিয়ত ধারণ করেছেন। তিনি মূলত যোদ্ধা-কবি। বাংলা কবিতায় মানুষের আবহমান সংগ্রামকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংগ্রামে উত্তীর্ণ করতে পেরেছেন। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে মোহনের ভূমিকার বিশেষতম তাৎপর্য এখানে।

১৯৫৬ সালের ১ আগস্ট সিরাজগঞ্জের খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের এক ঐতিহ্যবাহী ও জনহিতৈষী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কবি মোহন রায়হান। তাঁর রাজনৈতিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের উত্থান ঘটে ১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। তাঁর পিতা ফরহাদ হোসেন ছিলেন ‘খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ’-এর প্রায় তিন দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও জনদরদী চেয়ারম্যান, ‘খোকশাবাড়ি হাসপাতাল’ ও ‘ব্রাহ্মণবয়ড়া গ্রোইন বাঁধ’-এর প্রতিষ্ঠাতা, ‘সিরাজগঞ্জ কওমী জুট মিলস্’-এর উদ্যোক্তা এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু-এর ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর একজন সাহসী সৈনিক। তাঁর মাতা মাহমুদা খাতুন ছিলেন মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ, সমাজহিতৈষী এক মহীয়সী নারী। এমন আলোকিত পারিবারিক পরিবেশেই জন্ম নিয়েছিলেন তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান মোহন রায়হান—যিনি পরবর্তীকালে দ্রোহ, প্রেম, প্রতিবাদ, সাম্য, স্বাধীনতা ও বিপ্লবের এক অনন্য কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।

একাত্তরের রণাঙ্গন থেকে উঠে আসা কবি ও সংগ্রামী মোহন রায়হান বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কবিতা আন্দোলনের এক বিরল ব্যক্তিত্ব। তিনি অগ্নিঝরা একাত্তরের সিরাজগঞ্জের ‘জয় বাংলা’ বেতার কেন্দ্রের কবি। ১৯৬৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি স্বৈরাচার, সামরিক দুঃশাসন, শোষণ, লুণ্ঠন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির এক আপসহীন যোদ্ধা। শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের মুক্তি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি ১৩ বার কারাবরণ করেছেন এবং অসংখ্যবার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক জান্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করলে, তার পরদিনই প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন থেকে সামরিক আইন ভঙ্গ করে প্রথম প্রতিবাদী মিছিল বের করেন তৎকালীন ছাত্রনেতা মোহন রায়হান। আশির দশকের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের অন্যতম সাহসী সংগঠক হিসেবে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ১৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা।

১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারির ঐতিহাসিক ছাত্রবিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়ে প্রায় দশ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষাভবন ঘেরাওয়ের অভিযোগে সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী তাঁকে অপহরণ করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’-এ গুম করে রাখে। সেখানে টানা ২১ দিন তাঁর ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন—চোখ ও হাত বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত করা, বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগসহ নানাবিধ নিষ্ঠুর অত্যাচারে তাঁকে প্রায় পঙ্গু করে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ভারতের চেন্নাইয়ে দীর্ঘ আট ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি পুনরায় চলাচলের সক্ষমতা ফিরে পান। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অন্তত পাঁচবার ভয়াবহ নির্যাতনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। বাংলাদেশের কবিতার ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের এমন নির্মম অভিজ্ঞতার শিকার আর কোনো কবিকে হতে হয়নি।

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কবিতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন মোহন রায়হান। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ ও ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। জাতীয় কবিতা পরিষদের দুইবারের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়া ‘বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব’-এরও দুইবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি স্ফুলিঙ্গ সাংস্কৃতিক সংসদ, সৃজন, বাংলাদেশ লেখক শিবির, প্রাক্সিস অধ্যয়ন সমিতি, অরণি সাংস্কৃতিক সংসদ, রাখাল, লেখক ইউনিয়ন, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটিসহ অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব। তাঁর সম্পাদিত পত্র-পত্রিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ঢেউ, সূর্য সৈকত, স্ফুলিঙ্গ, সমকণ্ঠ, মায়াবিনী গোল্লায় যাক, যে ময়না নাচে, নীহার বানু, জনান্তিক, অরণি, সাহস, উপদ্রুত এই মাটি জ্বলে প্রতিরোধে, লাল তোমার পতাকা, ইশতেহার এবং বিদ্রোহের পঙ্‌ক্তিমালা। এছাড়া তিনি সাপ্তাহিক দিকচিহ্ন সম্পাদনা করেছেন। বর্তমানে তিনি দিকচিহ্ন কবিতা-পত্র ও সাওল সময়-এর সম্পাদক।

মোহন রায়হানের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ ও রচনার মধ্যে রয়েছে— জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ, আমাদের ঐক্য আমাদের জয়, সামরিক আদালতে অভিভাষণ, আর হলো না বাড়ি ফেরা, ফিরিয়ে দাও সেই স্টেনগান, শকুন সময়, গোলাপজানের পকেট পঞ্জিকা, মোহন রায়হানের সংগ্রামের কবিতা, মোহন রায়হানের প্রেমের কবিতা, Selected Poems, সবুজ চাদরে ঢাকা রক্তাক্ত ছুরি, ঘাতক না প্রেমিক, নিরস্ত্রীকরণ কবিতা, রক্তসিক্ত অশ্রুজবা, কবি কাপুরুষ হলে পৃথিবীতে নামে অন্ধকার, কবিতাসমগ্র, লাল মিছিলের ঐক্য, আবৃত্তির কবিতা, মেঘের শরীরে যাব, শাহবাগ ডেকেছে আমায়, আমার হৃদয় আমার ঘাতক, কালো আকাশ রক্তাক্ত মেঘ এবং কবিতা ও জীবন। তাঁর কবিতায় মাটি, মানুষ, দ্রোহ, প্রেম, প্রতিবাদ, প্রকৃতি ও জীবনের গভীর বোধ একাকার হয়ে উঠেছে।

সারা জীবনের আপসহীন সংগ্রাম, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, ইরান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আমন্ত্রিত, সংবর্ধিত ও পুরস্কৃত হয়েছেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’। কর্মজীবনে মোহন রায়হানের যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও কিংবদন্তি ব্যাংকার লুৎফর রহমান সরকার প্রতিষ্ঠিত সোনালী ব্যাংক -এর আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসংস্থান প্রকল্প— বিকল্প’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘বিকল্প প্রিন্টিং প্রেস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি ‘বিনা রিং, বিনা অপারেশনে হৃদরোগ মুক্তি’র চিকিৎসার যুগান্তকারী আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান Saaol Heart Center (BD) Ltd.-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এর শাখা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এই চিকিৎসা নেটওয়ার্কের ১৪৫টি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া তিনি ‘সাওল ফাউন্ডেশন’ ও ‘বিকল্প ফাউন্ডেশন’-এর পরিচালক, ‘বিকল্প ট্রেডিং’, ‘সাহস মিডিয়া’ ও ‘সাহস প্রকাশনী’র স্বত্বাধিকারী।

স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘অয়েল ফ্রি কিচেন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য ও নীরোগ দেহ আন্দোলনেরও অন্যতম পথিকৃৎ হয়ে উঠেছেন।

আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ কবি মোহন রায়হানের ৭০ বছরপূর্তি উপলক্ষে লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. সলিমুল্লাহ খান-কে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে ‘মোহন রায়হান ৭০ বছরপূর্তি উদ্‌যাপন পরিষদ’। তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হবে একটি বিশেষ সংবর্ধনাগ্রন্থ এবং গ্রহণ করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। উল্লেখ্য যে, তাঁর ‘৫০ বছর পূর্তি সংবর্ধনাগ্রন্থে’ দেশ-বিদেশের দুই শতাধিক বিশিষ্ট রাজনীতিক, কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী তাঁকে নিয়ে মূল্যবান লেখা প্রকাশ করেছিলেন।