দেয়া–নেওয়া

posted in: নতুন লেখা | 0

‘দেওয়ারও কেউ নেই, নেওয়ারও কেউ নেই’—

তবু চেয়েছি দিতে, উজাড় করে দিতে; চাইনি কিছুই— একবুক ভালোবাসা ছাড়া।

কতটুকু পেরেছি দিতে, কতটুকু নিয়েছি— তার হিসাব কখনো কষিনি। শুধু জানি, এই জীবনকে পূর্ণ করেছি দীর্ঘশ্বাসে, হাহাকারে, নিঃশব্দ আর্তনাদে।

একদিন নদীকে বলেছিলাম— এক আজলা জল দেবে?

মুহূর্তেই নদী মরুভূমি হয়ে গেল।

একবার মুগ্ধ চোখে তাকিয়েছিলাম এক পুষ্পোদ্যানের দিকে—

দেখতে দেখতে ফুলের বাগান শ্মশানে পরিণত হলো।

এক চৈত্রদগ্ধ দুপুরে গ্রামের পথে একটি সবুজ, পল্লবিত বৃক্ষের সুশীতল ছায়ায় দাঁড়িয়েছিলাম—

হঠাৎ তার সমস্ত পাতা ধুলোর মধ্যে ঝরে পড়ল, যেন বহুদিনের ক্লান্ত শরীর।

খুব যত্ন করে একটি শ্যামল ভূখণ্ডের মানচিত্র এঁকেছিলাম—

দেখি, সেটি ভরে গেছে মানুষ ও প্রকৃতি-ধ্বংসী হিংস্র জন্তু-জানোয়ারে।

মানুষের আর্তনাদ শুনে যখনই দাঁড়িয়েছি মানুষের পাশে, যতবারই ছুটে গেছি দুঃখের কাছে—

ততবারই আমার বুকের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে রক্তের গঙ্গা।

আর যে নারীর কাছেই সামান্য প্রণয় ভিক্ষা করেছি,

সে-ই ধীরে ধীরে প্রাগৈতিহাসিক পাথরে পরিণত হয়েছে।

তাই আজ আর পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব করি না।

শুধু জানি— দিতে চেয়েছিলাম ভালোবাসা, পেয়েছি দীর্ঘ বিরহের অমোচনীয় শিলালিপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *