ব্যবহৃত আমি

posted in: নতুন লেখা | 0

না, চাই না কিছু, তবু— তুমি আমাকে ব্যবহার করতে পারো, নাব্য ভূমির মতো— যে মৃত্তিকায় বপন হয় তোমার সকল ইচ্ছের বীজ।

ইচ্ছার লাঙ্গলে চষে নিতে পারো আমাকে বারবার, ক্লান্তিহীন— আমি তবু থাকবো নীরব, উর্বর, প্রস্তুত।

তুমি যখন মহাদুঃসময়ে একাকী, সব দিক নিভে যায়, অন্ধকারের ঢেউ যখন ছায়া হয়ে নামে— তখন আমিই হতে পারি তোমার দিশারী, অন্ধের যষ্টি, কিংবা ধ্রুবতারার মতো অটল আলো।

তুমি যখন সমাজের নর্দমায় নিক্ষিপ্ত, ঘৃণা আর অপমানের জ্বালায় দগ্ধ, প্রিয়জনও দূরে সরিয়ে দেয় তোমাকে— আমি তখন তোমার ক্ষত ধুয়ে দিতে পারি, শুভ্র যত্নে মুছে দিতে পারি রক্তের দাগ।

তোমায় আবার দাঁড় করাতে পারি জীবনের সোনালি প্রান্তে, সাফল্যের দীপ্ত শিখরে।

তুমি তখন হতে পারো কিংবদন্তি— যে তুমি ছিলে এক সময় তুচ্ছ তৃণ, আজ সেই তুমি সময়ের মহিরুহ!

আর আমি— শুধু ছায়া হয়ে থেকেছি তোমার পেছনে, তোমার বিজয়ের ধুলোয় মিশে গেছি নিঃশব্দে।

তুমি নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে, বারবার ব্যবহার করো আমাকে— দিনে, রাত্রে, প্রয়োজনের যে কোনো ক্ষণে।

আমার নব্বই ভাগ সময় কেটে যায় মানুষের প্রয়োজনে— আমি খরস্রোতা নদীর পাড়ের মতো ক্ষয়ে যাই, নিজেকে বিলিয়ে দিই বিন্দু বিন্দু করে।

আমাকে ব্যবহার করো— হ্যাঁ, করো, আবার করো, যতবার ইচ্ছা—

কারণ আমি ব্যবহৃত হতে শিখেছি ভালোবাসার নামেই।

তবু, আমি কিছুই চাই না তোমাদের কাছে— না পদ, না পুরস্কার, না প্রতিপত্তি, না সম্পদ, না স্বর্ণমুকুট।

শুধু চেয়েছিলাম— একটুখানি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

কিন্তু কেউই তা দেয়নি…

আর আমি জানি, কেউ তা দেবে না কোনোদিনও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *