লাশগুলো যায় নি, যাবে না

লাশগুলো কথা বলতে চায়

লাশগুলো উঠে দাঁড়াতে চায়

লাশগুলোর উত্তোলিত হাত ঠিকরে বেরিয়ে আসা চোখ

আগুনের গোলা হয়ে ছড়িয়ে পড়তে চায়।

তোমরা কিছুতেই ওদের স্তব্ধ করতে পারবে না

ওরা হস্তান্তর হয় নি স্বজনের কাছে

ওরা যায় নি অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে

ওরা ফিরে যায় নি ক্ষুধার অগ্নিদগ্ধ ভিটেমাটি, বস্তিতে

ওরা কবর থেকে হাসপাতাল থেকে আবার আসবে সাভারে

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতন

ওরা আবার উঠে দাঁড়াবে।

ওদের অগণিত মুষ্ঠিবদ্ধ হাত নিপুণ আঙুল তীক্ষ্মচোখ

কাউকেই ক্ষমা করবে না

ওরা চাইবে না কোনো বিচার

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলের নেত্রীর কাছে

ওদের কোনো অভিযোগ নেই লুইকানের স্থাপত্যের কাছে

ওরা ভ্রূক্ষেপ করবে না পুলিশ র‌্যাব বিজিবি সামরিক বাহিনীসহ

অন্য কোনো বাহিনীকে

ওরা থোরাই কেয়ার করবে ওদেরই অর্থে চালিত অনর্থ রাষ্ট্রকে।

ইট কাঠ রড লোহা বিম কংক্রিট স্লাবের নিচে

চাপা পড়া পিষে যাওয়া লেপ্টে থাকা ওদের হাড় মাংস মগজ

রক্ত মল পেচ্ছাব ঋতুরস বমি হাত পা চোখ মুখ বুক পেট যৌনাঙ্গ

আবার ঠিকঠাক জোড়া দিয়ে প্রাণময় সজীব তরতাজা

উদ্দীপ্ত হয়ে রুখে দাঁড়াবে।

রানা প্লাজার করুণ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে

শুরু হবে ওদের নতুন অভিযাত্রা

সাভার বাইপাইল আশুলিয়া টঙ্গি জয়দেবপুর তেজগাঁ হয়ে

সারাদেশ ঘেরাও করবে ওরা

প্রতিটি শিল্পকারখানা মজুরপল্লী থেকে

বেরিয়ে আসবে ওদের ভাই বন্ধু ব্যথিত স্বজন সহকর্মী স্বশ্রেণির

খেটে খাওয়া দলিত প্রবঞ্চিত মজুরমানুষ।

ওরা জানতে চাইবে হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টের কাছে

ওদের রক্ত জলকরা অর্থে যে আদালত

ওদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য কী কী আইন আছে কতো কতো ধারা?

ওরা ঢুকে পড়বে সচিবালয়ে

ওদেরই জীবনের বিনিময়ে যে আমলাতন্ত্র

মন্ত্রী সচিবদের বাদশাহী

সেই জীবন কেনো এত তুচ্ছ মূল্যহীন

বার বার কেনো মরণ ছোবল কেড়ে নেবে ওদের শুভ্র জীবন?

ওরা ঘেরাও করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

হিসাব নেবে কতো টাকার পাহাড় গড়ে উঠেছে

ওদের গ্যালন গ্যালন রক্ত রফতানি করে

কত লক্ষ ট্রিলিয়ন রক্ত ঘাম কারা কিনে নিয়েছে কত মূল্যে?

হিসাব নেবে বিনিয়োগ আর মুনাফার

বস্ত্রপাণ্ডবেরা আর কতো লোভী

অমানুষ রক্তপিপাসু অর্থগৃধ্নু হবে!

ওরা খুঁজে খুঁজে তাজরিন স্পেকট্রাম রানা প্লাজার মতো

ধ্বংস করে দেবে সব বস্ত্রশাহীর রাজপ্রাসাদ মিশিয়ে দেবে ধুলায়

হত্যার প্রতিশোধে হত্যার উৎসবে মেতে উঠবে

যদি না পায় স্মরণাতীতকালের এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের

প্রকৃত বিচার আর প্রতিকার।

লাশগুলো কেউই যায় নি, যাবে না

তারা ফিরে আসছে সাভারে সমবেত হচ্ছে রানা প্লাজার সামনে

তোমরা যতই সরিয়ে ফেলতে চাও জীবনবিনাশী ধ্বংসস্তূপ

তোমাদের পাপ আর কলংকের চিহ্ন শ্রমিকের অশ্রু আর

রক্তের দাগ মুছে ফেলতে চাও

আর্তচিৎকার কান্না আর হাহাকার মুক্ত করতে চাও বাতাস

যতই এয়ার ফ্রেশনার ছড়াও

হে ধনিক বণিক শাসক শোষকের পা চাটা ধ্বজাধারী

ঘুণ-খোকলা ফাঁপা খুনি ধর্ষক লুণ্ঠক নিবীর্য রাষ্ট্র

লাশগুলো তোমাকে রেহাই দেবে না

লাশগুলো আর লাশ হবে না

তোমার ধ্বংসস্তূপের ওপরে উড়বে

জীবনের সবুজ পতাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *