আবার যুদ্ধে যাব

posted in: নতুন লেখা | 0

আবারও হাতে নেব আগুন-চুম্বন-খাওয়া অস্ত্র
আবার যুদ্ধে যাব—
আমার রাইফেলের কালো নলের গভীর আঁধার থেকে
জন্ম নেওয়া সেই রক্তাক্ত সবুজ স্বদেশ
পাঁচ দশকেও ছুঁতে পারিনি যে নির্দিষ্ট মুক্তির দিগন্ত—
আজ সেই বিজয় ছিনিয়ে নিতে চায়
সেই চিহ্নিত পরাজিত হায়েনাদের দল!
আমার কৃষক—এখনো পায় না ফসলের ন্যায্য দাম,
আমার শ্রমিক—রক্তঘামে গড়ে তোলে সভ্যতার ইস্পাত নগর
আর লুটের রাজারা গড়ে তোলে
বেগমপাড়ার সোনাঝরা গুহা
ব্যাংকের ভোল্ট ভর্তি করে রাখে
মধ্যরাতের কালো লুটের টনটনানো মুদ্রা।
পূর্ণিমার চাঁদের মতোই ওঠানামা করে
ওদের গোলগাল চেহারার চেকনাই
আর আমার মুটে-মজুর, ঠেলাওয়ালা, রিকশাচালক
প্রতিদিন কঙ্কালসার হয়ে ক্ষুধাুঅনাহারুঅপুষ্টির গহ্বরে
ধুঁকে ধুঁকে এগিয়ে যায় অকাল মৃত্যুর দিকে
ওদের সন্তানেরা আলোহীন, ভালোবাসাহীন
অর্থহীন অন্ধকারে ডুবে থাকে
জীবনের নিঃশেষ প্রগাঢ় পঙ্কিলে
তাই আবার অস্ত্র হাতে তুলে নেব—
আবার যুদ্ধে যাব।

যাদের বিন্দু বিন্দু শ্বেতকণিকায় পৃথিবী এগোয়
চাকা ঘোরে সভ্যতার,
সেই মানুষগুলোর অধিকার আজ
বঞ্চনার বুলডোজারের নিচে নিষ্পেষিত
তাদের ভালোবাসা, স্বপ্ন, ঘর—সব কেড়ে নিয়েছে
ক্ষমতার বিষাক্ত চক্র।
বারবার সেলাই করে দেওয়া হয় আমার জিহ্বা,
বিধান হয় কণ্ঠরোধ—ক্ষমতার করাল থাবায়
মিথ্যার মোলায়েম বুলিতে
মৌসুমি মৌমাছির মতো নিশ্বাসে ঢোকে মৃত্যু।
রাজ-উদ্যানে ঢুকেই ইবলিশের প্রেতাত্মারা
ভণ্ড সাধুর বেশে ছড়িয়ে দেয় বিভীষিকার বিসুভিয়াস।
একাত্তরের সেই পরাজিত দানবেরা
আজ আবার ধার দিচ্ছে হিংস্র নখর—
নেকড়ের মতো লম্ফঝম্ফ ঝাঁপাতে প্রস্তুত
ওত পেতে আছে,
লাল-সবুজের জনপদে আবার আগুন জ্বালাতে,
গ্রাম থেকে গ্রাম জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে
তাহলে কি আবার মানুষের রক্তেুআগুনে
ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে এই মাতৃভূমি?
লক্ষ শহীদের রক্ত, মা-বোনের ইজ্জত, অশ্রু,
প্রেমুভালোবাসার বিনিময়ে অর্জিত
স্বাধীন সার্বভৌমতার মানচিত্র
পুড়ে যাবে কি আবার?
না, আবার অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে
আবার যুদ্ধে যেতে হবে।
মাটির ঘ্রাণে, মানুষের স্বপ্নে
এই স্বাধীনতার রক্তাক্ত রোদ্দুর বাঁচাতে—
আবার, আবার, আবার যুদ্ধে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *