সোনালি ঈগলের নিষ্ঠুর ঠোঁটে
আমার হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে নিয়েছ তুমি,
রক্তস্নাত পৃথিবীর বক্ষ থেকে
কেড়ে নিয়েছ সমস্ত আলোর উত্তরাধিকার।
ধারালো নখরের আঘাতে
অন্ধকারের গভীরে বিদ্ধ করেছ দৃষ্টি,
ছিন্নভিন্ন করেছ আমার সমগ্র অস্তিত্ব—
রক্তের উন্মত্ত স্রোতে ভেসে গেছে মাটি,
হাড়গোড়ের আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে আকাশ।
তবু কী আশ্চর্য!
ধ্বংসস্তূপের ভেতর দাঁড়িয়েও
আমি তোমাকেই চাই।
আসমান-জমিন জুড়ে
যেদিকেই তাকাই, তোমারই মুখচ্ছবি;
বাতাসের প্রতিটি শ্বাসে ভেসে আসে
তোমার নামের গোপন মন্ত্রধ্বনি।
তোমার হাসির মতো ঝরে পড়ে নক্ষত্রেরা,
রূপালি মেঘেরা জড়িয়ে রাখে তোমার ছায়া,
তুমি আমার বিরহ-বিধুর আকাশের
জাদুময় নক্ষত্রবন,
অনন্ত অন্ধকারে জ্বলে থাকা এক অলৌকিক প্রদীপ।
একটি রক্তাক্ত, নিহত দেহ
অন্তহীন শূন্যতার প্রান্তে দাঁড়িয়েও
উচ্চারণ করে শুধু—
তোমার প্রেম,
তোমার নাম।
যেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের শিকলভাঙা
এক অবিনত বিপ্লবী,
নির্যাতনের অগ্নিকুণ্ডে দগ্ধ হতে হতেও
শেষ চিৎকারে ঘোষণা করে—
আমি তোমাকেই ভালোবাসি।
যত মৃত্যু, যত ধ্বংস,
যত নির্বাসন আর রক্তপাত—
তবু তোমাকেই চাই,
তোমাকেই চাই, শুধু তোমাকেই চাই।
Leave a Reply